টেনশন জমা রাখার ব্যাংক

ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র শিশু। তবুও তাদেরকে দেখে আনন্দিত মনে হয়। মনে হয়, এদের কোন দুঃখ নেই। এবার, নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন -

  • আপনি কতদিন আগে, এই শিশুদের মতন আনন্দিত হতে পেরেছিলেন?

বেশিরভাগ মানুষই এমন আনন্দের মুহুর্ত স্মরণ করতে পারবে না। অল্প কয়েকজন হয়তো এমন বলবেন - আমারও ছোটবেলায় এমন আনন্দ ছিলো।

হ্যাঁ, এটা হলো প্রথম কথা - আপনি ছোটবেলায় আনন্দে ছিলেন। ছোটবেলায় সুখে থাকার উপায় জানতেন। বড় হয়ে, সেই উপায় ভুলে গেছেন।

ছোটবেলায় সুখে থাকার পেছনে দুটি কারন ছিলো -

  1. আপনি সুখ খুজতেন না। সুখী হয়ে থাকতেন। কোন টেনশন ছাড়াই বেচে থাকতে পারতেন।
  2. যে কোন ধরনের সমস্যায় পড়লে, মায়ের কোলে গিয়ে, হাউ-মাউ করে কাদতে পারতেন।

বড় হবার পরে, এই দুটি কাজের একটিও করতে পারেন না। টেনশন ছাড়া চলতে পারেন না। মায়ের কোলে আশ্রয় নিতে পারেন না। এজন্যই আপনি ছোটবেলার মতন সুখী হতে পারেন না।

ইনশা-আল্লাহ। আজকে আপনাকে ওই দুটি বিষয় আবারও নতুন করে শিখিয়ে দিব। টেনশন-মুক্ত এবং নিরাপদ আশ্রয়

  • ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তা'ঈন ( إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) - আমরা তোমার ইবাদত করি এবং তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি (সুরা ফাতিহা - ৫)।

বিশ্বের সকল মুসলিম উপরের এই লাইনটি মুখস্ত করে রেখেছে। আমারা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। সেই আশ্রয়টা কেমন ; সেটা আজকে জানবো।

আপনার অনেক বড় একটি টেনশন চলছে। তিনবার পরীক্ষা দেবার পরেও পাশ করতে পারছেন না। অথবা, শিক্ষিত বেকার ; আজকে ১০০তম ইন্টারভিউতেও চাকরি হয়নি। বৃদ্ধ মা/বাবার ব্যয়বহুল চিকিৎসা চলছে। ছোট বোনের বিয়ে দিতে দেরী হচ্ছে। এমন বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। এমন সময় পাওনাদার আপনাকে দুই-একটি কড়া কথা শুনিয়ে দিলো। আপনি একেবারে দিশেহারা……

এমন পরিস্থিতিতে, অজু করে, জায়নামাজ বিছিয়ে, দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার জন্য দাড়াবেন। সিজদায় তিনবার "সুবহানা রাব্বি আল আলা" বলার পরে, নিঃশব্দে কেদে বলুন - আল্লাহ, আমাকে এই সমস্যা থেকে রক্ষা করো।

এটাই সেই আশ্রয়। শিশুরা খেলাধুলায় আহত হয়ে, দৌড়ে মায়েরা কোলে গিয়ে কান্না করে। মায়ের কোলে গেলেই, অর্ধেক ব্যথা দুর হয়। আপনার জন্য মায়ের কোলের মতন একটি আশ্রয় হলো - সিজদা। সিজদায় কাদলে টেনশন অর্ধেক দুর হয়ে যায়।

সবাই অবশ্যই ব্যাংক চেনেন। ব্যাংক হলো এমন একটি যায়গা, যেখানে নিজের টাকা অন্যের কাছে রেখে নিরাপদে, চিন্তা-মুক্ত থাকা যায়। শুধুমাত্র টাকা নয়, ব্যাংক বিভিন্ন মূল্যবান অলঙ্কার, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র ইত্যাদিও জমা রাখে। এমনকি, রক্ত জমা রাখার জন্য বিশেষ ধরনের ব্যাংক আছে - blood bank

টেনশন জমা রাখা যায়, তেমন বিশেষ ধরনের ব্যাংক থাকলে কেমন হতো?

আপনার সকল টেনশন সেখানে জমা রেখে, নিজে চিন্তা-মুক্ত থাকতে পারতেন। শিশুরা আসলে সেটাই করে। নিজের সকল টেনশন, তারা মা-বাবার কাছে জমা রাখে। মা-বাবা টেনশন করে। আর শিশুরা চিন্তা-মুক্ত থাকে।

ঠিক একই জিনিস আপনিও করতে পারেন। সিজদায় গিয়ে বলুন - আল্লাহ, আমি চাকরি পাচ্ছি না। আমাকে চাকরি দাও।

ব্যাস। আপনার টেনশন জমা হয়ে গেল।

আপনি চাকরির ব্যপারে আর কোন চিন্তাই করবেন না। কবে চাকরি পাবো। আজকে হবে কিন। ভালো চাকরি পাবো তো। এসব কোন চিন্তাই করবেন না। টেনশন জমা দিয়েছেন আল্লাহর কাছে। আপনি শুধুমাত্র ইন্টারভিউ দিয়ে চেষ্টা করতে থাকবেন। কবে, কিভাবে, কোন চাকরি হবে, সেটা আল্লাহ জানেন। আপনি চিন্তা-মুক্ত থাকুন।

কি বুঝলেন?

  • সুখের প্রথম ধাপ - মায়ের কোলের মতন, সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেওয়া। এতে অর্ধেক দুঃখ দুর হয়।
  • সুখের দ্বিতীয় ধাপ - সকল টেনশন, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে জমা রাখুন। নিজে চিন্তা-মুক্ত থেকে, চেষ্টা করতে থাকুন।

দ্রষ্টব্য:

পাল্টা প্রশ্ন থাকতে পারে - এমন অদ্ভুত পদ্ধতি কখনো শুনিনি। এই পদ্ধতি কে বানিয়েছে? ইসলামের নিয়ম অনুসারে, এই পদ্ধতি কি জায়েজ? এভাবে কি আসলেই কাজ হয়?

উত্তর - আমার মতন ছোট মানুষ এমন পদ্ধতি বানানোর ক্ষমতা নেই। এই পদ্ধতির প্রবর্তক - নবী মুহম্মাদ (স) নিজেই। তিনি কোন টেনশনে পড়লে, নামাজে দাড়াতেন। আপনি নিজেই চেষ্টা করে দেখুন, কেমন কাজ হয়।

Comments