আপনি যদি নিজের ঘরে একটি পাখি পালন করেন, তাহলে সেই পাখির থাকার উপযোগী করে ছোট একটি পাখির বাসা বানিয়ে দিবেন। সেই পাখির বাসাটি কি লোহা দিয়ে বানাবেন, নাকি প্লাস্টিক দিয়ে বানাবেন? না, এসব কিছুই না। আপনি গাছের পাতা, খড়-কুটো ইত্যাদি দিয়ে বাসা বানাবেন। কেন? ওভাবে খড়-কুটো দিয়ে পাখির বাসা বানাবেন কেন? কারন, ওটা পাখির জন্য উপযোগী। পাখিরা খড়-কুটোর ঘর বানায় ; তেমন ঘরেই ওদের প্রশান্তি। আপনি সেই পাখির প্রশান্তির জন্যই খড়-কুটো দিয়ে ঘর বানাবেন।
চিড়িয়াখানাতেও একইভাবে পশু-পাখি সংরক্ষন করে। যে প্রানীর জন্য যেমন পরিবেশ লাগে, তার জন্য ছোট করে তেমন পরিবেশ বানিয়ে দেয়। যেমন যে প্রানী গুহার মধ্যে থাকে, তার জন্য ছোট গুহা বানায়। যে প্রানী গাছের ডালে ঝুলে থাকে, তার জন্য তেমন ঝুলার ব্যাবস্থা করে দেয়। যে প্রানী পাণীর কাছাকাছি থাকে, সেটার জন্য ছোট একটি পুকুর বানানো থাকে। এভাবে, খুবি ছড় পরিসরে, সেই প্রানীর উপযোগী পরিবেশ বানিয়ে, তাকে চিড়িয়াখানায় আটকে রাখা হয়।
আল্লাহ, প্রথম মানুষ আদম (আ) এবং হাওয়া (আ) সৃষ্টি করে, তাদের দুজনকে জান্নাতে রেখেছিলেন। আরবী "জান্নাত" (جَنّة) কথাটির অর্থ - উদ্যান ; বাগান।
উদ্যান জিনিসটা আসলে কি? গাছ-পালা, নদী-ঝরনা ইত্যাদি। হ্যাঁ, যেটাকে আমরা প্রাকৃতিক দৃশ্য বলি। জান্নাতে, এমন গাছ-পালা, নদী-ঝরনা ইত্যাদির মধ্যেই বসবাস করেছিলো প্রথম মানুষ, আদম ও হাওয়া। তারাই মাদের আদি পিতা-মাতা। আমরা সবাই তাদেরই বংশধর।
গাছ-পালা, নদী-ঝরনাতে বসবাসের উপযোগী আদম ও হাওয়াকে যখন জান্নাতের বাইরে, একটি গ্রহে পাঠানো হলো। তখন, তাদের জন্য ছোট পরিসরে তেমনই গাছ-পালা, নদী-ঝরনা বানিয়ে দেওয়া হলো। সেটাকেই আমরা প্রকৃতি বলি। সেটাই আমাদের পৃথিবী।
আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়াতে পরীক্ষা দেবার জন্য পাঠিয়েছেন, সেটা আপনি জানেন। আমরা দুনিয়াতে সীমিত সময়ের জন্য এসেছি, সেটাও আপনারা জানেন। এসব জানার সাথে, আমি সামান্য একটি বিষয় যোগ করছি। সেটা হলোঃ
- জঙ্গলের কোন প্রানীকে চিড়িয়াখানায় রাখার জন্য, সেই প্রাণীর উপযোগী করে সীমিত আকারে পরিবেশ বানিয়ে দেওয়া লাগে। জান্নাতের প্রানী মানুষকে দুনিয়াতে রাখার জন্য, প্রাকৃতিক পরিবেশ বনিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই "বানিয়ে দেওয়া হয়েছে" কথাটির অর্থ বুঝেছেন? আল্লাহ, এমন গাছ-পালা, নদী-ঝরনা বানিয়ে, এই গ্রহটিকে ব্যাতিক্রমী করেছেন। মানুষের বসবাসের উপযোগী বানিয়েছেন। সামান্য হলেও, এই প্রকৃতি জান্নাতের মতন দেখতে।
মহাকাশ গবেষনা করে, বিভিন্ন গ্রহের ব্যাপারে, বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন। আমাদের সৌরজগতের ইউরেনাস ও নেপচুন গ্রহে, নিয়মিত "হীরা বৃষ্টি" হয়। অনেক দুরে বেশ কয়েকটি হীরা, স্বর্ণ ইত্যাদির দামী বস্তুর গ্রহ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গ্রহে মিলিয়ে মিশিয়ে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস, এসিড ইত্যাদির ব্যাপারে জানা গেছে। কিন্তু, এখনো পর্যন্ত, মহাকাশে এমন কোন গ্রহের খোঁজ পাওয়া যায়নি যেখানে গাছ অথবা পানি আছে।
অন্য গ্রহে না থাকলেও। পৃথিবীতে প্রচুর পরিমানে গাছ ও পানি আছে। আসলে, আমরা খালি চোখে যা দেখতে পাই, সেটার মধ্যে সবচেয়ে বেশী পরিমানে আছে - গাছ ও পানি। আল্লাহ, এগুলো মানুষের জন্য বানিয়ে দিয়েছেন। যাতে পৃথিবীকে কিছুটা জান্নাতের মতন দেখায়। মানুষ বসবাস করার উপযোগী হয়। ঠিক যেমনি জঙ্গলের মতন দেখানোর জন্য, চিড়িয়াখানায় থাকা প্রানীটির খাচায় ঘাস-পাতা, ডাল-পালা রাখা থাকে।
মানূষের উপযোগী এই পৃথিবী নামক গ্রহটিকে, আমরা মানুষেরাই নগরায়ণের নামে নস্ট করে ফেলছি। যেগুলো মানুষে জন্য উপযোগী ; মানুষের মনে প্রশান্তি আনে। প্রতিদিন সেই গাছ কাটছি আর পানি দূষিত করছি। ওদিকে, মানুষের জন্য উপযোগী নয়, তেমন স্বর্ণ, হীরা ইত্যাদি মাটি থেকে খুঁজে বের করে, সম্পদের প্রতিযোগিতা শুরু করেছি। নিজেদের প্রশান্তি নস্ট করেছি।
আলোচনার বিষয়বস্তু ছিলো - গাছ-পালা ও নদী-সমুদ্র-ঝরনা ইত্যাদি প্রকৃতির কাছে থাকলে প্রশান্তি লাগে কেন?
-মানুষ হলো জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আসা প্রানী। প্রকৃতি, অর্থাৎ গাছ-পালা, নদী-ঝরনা, ইত্যাদি কিছুটা জান্নাতের মতন দেখতে। এজন্য প্রকৃতির আশেপাশে থাকলেই মানুষের মনে প্রশান্তি আসে।

Comments
Post a Comment