ইসলামের ব্যাপারে দ্বিতীয় সর্বাধিক ভুল বোঝা শব্দ - বিদাত। এই বিদাত জিনিসটা ভুল বুঝিয়ে, ইংরেজরা ভারতবর্ষের মুসলমানদের কয়েক শত বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
- আরবী বিদাত (بدعة) কথাটির অর্থ - উদ্ভাবন। নতুন কিছু আবিষ্কার।
বিদাত এর ব্যপারে বেশী কিছু বলার দরকার নেই। রসুল (স) বিদাত কে জাহান্নামের রাস্তা বলেছেন।
প্রতিটি বিদাত পথভ্রষ্টতা। প্রতিটি পথভ্রষ্টতা জাহান্নামে যাবার রাস্তা (হাদীস)
এখানেই মুসলমানরা ভয় পেয়েছে। উদ্ভাবন করে, বা নতুন কিছু আবিষ্কার করে, কেউই জাহান্নামে যেতে চায় না। দরকার হলে বাপ-দাদার মতন লাঙল চাষ করবে, নইলে শ্রমিকের কাজ করবে। কিন্তু নতুন কিছু করবে না। ইংরেজী ও বিজ্ঞান পড়ার ধারে কাছেও যাবে না।। রসুল (স) ইংরেজী ও বিজ্ঞান পড়েন নি। তাই, কোন মুসলমান এই নতুন বিষয় লেখাপড়া করবে না। বিজ্ঞান গবেষণা ও আবিষ্কার থেকে মুসলমানরা দুরে থেকেছে। এই সুযোগে অমুসলিমরা এগিয়ে গেছে।
এর পুরোটাই বোঝার ভুল। আজকের নেতারা যেমন কৌশলে ভুল বুঝিয়ে আমাদেরকে দমিয়ে রাখে। ঠিক তেমনি বিদাত এর ভুল ব্যাখা প্রতিষ্ঠা করে, ইংরেজরা মুসলমানদের দমিয়ে রেখেছিল।
আল্লাহর রহমতে, মুসলিমরা এখন শিক্ষাতে পিছিয়ে নেই। কিন্তু, সেই ইংরেজ আমলের মতন ধর্মপ্রাণ মুসলমান এখন খুজে পাওয়া কষ্টকর। দোয়া করি, আল্লাহ আমাদেরকে একই সাথে দুইটা সুবিধা দান করুন - মুসলমানরা ধর্মপ্রাণ হোক, এবং দলে দলে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করুন।
রসুল (স) কখনো গড়িতে চড়েন নি। গাড়ী চড়া বিদাত নয়। রসুল (স) আমাদের মতন সংবাদ পত্র পড়েন নি। সংবাদপত্র পড়া বিদাত নয়। রসুল (স) কখনো টেলিফোনে কথা বলেন নি। টেলিফোনে কথা বলা বিদাত নয়।
লক্ষ্য করুন - উপরে বর্ণিত সবগুলো কাজই উদ্ভাবন, নতুন আবিষ্কার। তবুও এগুলো বিদাত নয়। তাহলে বিদাত কোনটা?
রসুল (স) নামাজের প্রতি রাকাতে একবার রুকু দিয়েছেন। আপনি আরো ভালো করার জন্য দুই বার রুকু দিলেন। প্রতি রাকাতে দুটি সিজদা। আপনি ৩টি সিজদা দিলেন। অজু করার সময় পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ধুইতে হয়। আপনি হাটু পর্যন্ত ধুয়ে ফেললেন। কোরাবনীর পশুর গলা কাটতে হয়। আপনি পেট কেটে জবাই দিলেন। জাকাত দিতে হয় ২.৫%। আপনি কম-বেশী দিলেন।
এগুলো সবই বিদাত। গাড়ি চড়া, টেলিফোনে কথা বলা, ইত্যাদি নতুন উদ্ভাবন বিদাত নয়। কিন্তু, তিন সিজদা, দুই রুকু, হাটু পর্যন্ত অজু, এসব উদ্ভাবন বিদাত হলো কেন? এর একটাই কারন - ইবাদত।
- যে কোন উদ্ভাবন বিদাত নয়। শুধুমাত্র ইবাদতের উদ্ভাবনকে বিদাত বলে।
বড় আলেম, বড় বক্তা, প্রায় সবাই বিদাতের সংজ্ঞা এভাবে দেন - বিদাত হলো নতুন উদ্ভাবন। তাদের এই কথাটা ভুল। তারা সঠিক জানেন, সঠিক বোঝেন। কিন্তু বলার সময় অসতর্কতা বসত ভুল বলে ফেলেন। বিদাতের সঠিক সংজ্ঞা হলো - বিদাত এমন কোন ইবাদত, যেটা ইসলামে নেই। নতুন পুরাতন কোন ব্যাপার নয়। ব্যাপার হলো, ওই ইবাদত ইসলামে নেই। কোন কাজ বিদাত কিনা, সেটা জানার জন্য দুটি শর্ত মেনে যাচাই করতে হবেঃ
- ওই কাজটি কোন ধরনের ইবাদত কিনা (ইবাদত না হলে, সেটা বিদাত নয়)।
- ওই কাজটি ইসলামে (কোরআন বা হাদিসে) আছে কিনা (ইসলামে থাকলে, সেটা বিদাত নয়)।
এই দুটি শর্ত মেনে বিদাত যাচাই করুন। আবারও বলছি - বিদাত এমন কোন ইবাদত, যেটা ইসলামে নেই। এতক্ষন তো ইসলামের নিয়ম কানুন বলেছি। এবার একেবারে আমার নিজের কথা বলছিঃ
দুনিয়াতে যত পাপ কাজ আছে, সবই আনন্দদায়ক। ভালো কাজ করতে কস্ট হয়। সতকর্ম করতে কস্ট হয়। যারা কস্ট করে সতকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতে পুরস্কার রেখেছেন। যারা আনন্দ করে পাপ-কর্ম করে, তাদের জন্য আছে জাহান্নামের শাস্তি।
বিদাত এমন একটি পাপকর্ম যেটা কস্ট করে করা লাগে। শবে মেরাজ উপলক্ষে, তিনদিন রোজা থাকলেন। এই কস্ট করার কারনে পাপ হলো। ওই তিনদিন যদি মদ খেতেন, জুয়া খেলতেন, তাহলে আনন্দ করে পাপ করতেন। বিদাত জিনিসটা সাধারন পাপের চেয়েও খারাপ। সাধারন পাপে আনন্দ হয়, বিদাতে কস্ট হয়।
পাপ করতে ইচ্ছা হলে - আনন্দ করে পাপ করুন ; এনজয় করে পাপ করুন। কিন্তু, বোকার মতন বিদাত করে , কস্ট করে পাপ করবেন না।
Nice Post
ReplyDelete