আপনি কি "উপরওয়ালা" কথাটি লক্ষ্য করেছেন? সকল ধর্মের মানুষ, ইশ্বরকে বোঝাতে এই "উপরওয়ালা" শব্দটি বলে। অন্যান্য ভাষাতেও এমন কোন শব্দ বলে, যেটার অর্থ - যিনি উপরে আছেন। শুধু তাই নয়, ঈশ্বরের কাছে নিজের প্রার্থনা জানাতে, সকল ধর্মের মানুষই, উপরে তাকায়। কোন ধর্মেই ইশ্বরকে বোঝাতে জঙ্গলওয়ালা, পাহাড়ওয়ালা, সমুদ্রওয়ালা বলে না। সকল ধর্মের মানুষের কাছেই - ইশ্বর উপরে আছেন।
এর পেছনে একটাই কারন - মানুষের মনে ঈশ্বরের ধারনা (built in) দেওয়া আছে।
মানুষকে হাসি, কান্না শেখানো লাগে না। গিলে খাওয়া শেখানো লাগে না। এগুলো সবই মানুষের শরীর ও মনে (জন্মগত) দেওয়া আছে। একটি শিশু জন্মেই কান্না শুরু করে। জন্মের পরেই, গিলে খেতে পারে। হাতের মধ্যে কোনকিছু পেলে, আঙ্গুল দিয়ে আকড়ে ধরতে পারে। এগুলো সবই মানুষের মধ্যে (জন্মগত) দেওয়া আছে। এগুলো মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি (basic instinct)।
ঠিক তেমনই একটি জন্মগত বিষয় হলো - ঈশ্বরের ধারনা। প্রতিটি মানুষের মধ্যে ইশ্বর বিষয়ে মুল ধারনা দেওয়া আছে। সেই ধারনাটা এমন -
- তোমার সৃষ্টিকর্তা (ইশ্বর) আছেন, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।
- ঈশ্বর সর্বোচ্চ শক্তিশালী, ক্ষমতাবান
- ঈশ্বর আকাশে (উপরে) কোথাও আছেন
ব্যাস, ঈশ্বরের ব্যাপারে এই তিনটি তথ্য, মানুষের দেহে-মনে জন্মগত ঢুকিয়ে দেওয়া। এর বেশী আর কিছু জানে না। এমনকি ধারনা করতে পারে না ; কল্পনাও করতে পারে না।
এখানেই সমস্যা শুরু হয়।
মানুষের মনে জন্মগত একটি টান আছে - সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের প্রতি। এই টান কিছুটা ভালোবাসার মতন। বিতর্ক করে এটাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটাকে শুধুমাত্র অনুভব করা যায়। এটা কোন বিশ্বাস নয়। মানুষ জানে, তার সৃষ্টিকর্তা আছে। তার মন, বারবার তাকে সেটা জানায়। কিন্তু, মানুষ সেই সৃষ্টিকর্তা ব্যাপারে কিছুই জানে না। সৃষ্টিকর্তাকে দেখা যায় না, খুঁজে পাওয়া যায় না, তার ব্যাপারে কিছু জানা যায় না। এমনকি, তাকে কল্পনাও করা যায় না।
মন বলছে সৃষ্টিকর্তা আছে। ওদিকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এমন অবস্থায়, অল্প কিছু মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করে, নাস্তিক হয়। অন্যান্য মানুষেরা বড়, শক্তিশালী বা ক্ষমতাবান কিছুর পুজা করে, সেটার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে পাবার চেস্টা করে। আর এভাবেই এতগুলো ধর্ম হয়ে গেছে।
মানুষ বাল্যকালে খেলাধুলার প্রতি ঝোঁকে। কিশোর বয়সে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আরেকটু বড় হলে আয় রোজগার, ঘর সংসার ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। আরেকটু বড় হলে, নিজের সন্তান চায়। এগুলো সবই মানুষের দেহে মনে জন্মগত দেওয়া আছে।
ঠিক একইভাবে, ৪০+ বয়স হলে, মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে খোঁজে। ওই বয়সে মানুষ বেশী ধার্মিক হয়। সৃষ্টিকর্তার ধারনা মানুষের দেহে মনে জন্মগতভাবে দেওয়া আছে।
আমার সাথে বিতর্ক করার দরকার নেই। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করুন। মাত্র ৫ মিনিটের জন্য, আপনার ধর্মীয় ও সামাজিক শিক্ষা পাশে সরিয়ে রেখে, গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন। আপনার মনের গভীরে ইশ্বরের ধারনা লুকিয়ে আছে। সেটা আপনি কখনো বের করার সুযোগ পান নি। কারন, আপনি নিজের মনের ভেতরে "ইশ্বর" ধারনাটা বোজার আগেই, আপনার পরিবার ও সমাজ, তাদের ইশ্বর ধারনাটা আপনাকে শিখিয়ে দিয়েছে।
সৃষ্টিকর্তা কি সত্যই আছেন? তুমি কি সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাস করো? এই প্রশ্ন কিছুটা এমন - তুমি কি ভালোবাসা বিশ্বাস করো?
ভালোবাসার মধ্যে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কিছু নেই। এটা অনুভব করার ব্যাপার। আপনি জানেন, ভালোবাসা আছে। এখন সেই ভালোবাসা অনুভব করুন। ঠিক তেমনই, আপনার মন জানে, সৃষ্টিকর্তা আছেন। এবার আপনি সৃষ্টিকর্তাকে উপলব্ধি করুন.

Comments
Post a Comment