আসলে, এর জন্য কোন নির্দিস্ট ভাষা বা রীতিনীতি নেই। তবে, শুধুমাত্র মুখে "ধন্যবাদ" বললে হবে না। সত্যই কৃতজ্ঞ হয়ে "ধন্যবাদ" বলতে হবে। মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার মনের কথা জানেন। আপনি সত্যই কৃতজ্ঞ কিনা ; সেটা আল্লাহ জানেন।
কিভাবে কৃতজ্ঞ হতে হয়?
এই বিষয়ে, একেবারে বাস্তব উদাহরন আছে। ঘটনাটা বোঝার জন্য উপরের ছবির এই দুটি জিনিস চিনতে হবে। বাম পাশে IndoMaret নামক দোকান দেখা যাচ্ছে। এটা ইন্দোনেশিয়ার একটি departmental store এর চেইন। পুরো দেশে এদের দোকান ছড়িয়ে আছে। প্রতিটি মহল্লাতে দুই একটা দেখা যায়। এরা স্বভাবতই মানসম্মত জিনিসপত্র বিক্রি করে। ডান পাশের ছবিতে তিন চাকার যে রিকশার মতন জিনিসটি দেখা যাচ্ছে ; এটার নাম - Gerobak। এক ধরনের ফেরীওয়ালা ; এই রিকশা চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে, হালকা খাবার বিক্রি করে।
একবার হটাত ইচ্ছা হলো IndoMaret থেকে পাউরুটি আনতে হবে। ওদের নিজস্ব উতপাদনে, বেশ ভালো মানের পাউরুটি পাওয়া যায়। গিয়ে দেখি, ওদের রুটির তাক (shelf), একেবারে খালি। জানা গেল - ওই দিনের সাপ্লাই আসেনি। ভাবলাম, IndoMaret এর অন্য কোন দোকানে হয়তো রুটি পাওয়া যাবে। এলাকার মধ্যেই, অন্য প্রান্তে আরেকটি দোকান আছে। রাস্তায় হাটছি আর বলছি - আল্লাহ, আমাকে রুটি মিলিয়ে দাও।
মাঝে মাঝে মুদির দোকানেও রুটি থাকে। পথে যতগুলো মুদির দোকান দেখেছি, সবগুলোতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেছি - তোমাদের কাছে কি পাউরুটি আছে? কোথাও পাইনি। অবশেষে দ্বিতীয় IndoMaret এ গিয়ে দেখলাম - ওদেরও সাপ্লাই আসেনি। আমি খুঁজতে থাকলাম, আর কোথায় IndoMaret আছে। সেই সাথে মনে মনে বলতে থাকলাম - আল্লাহ, আমাকে রুটির ব্যাবস্থা করে দাও।
অবশেষে তৃতীয় ও চতুর্থ IndoMaret গিয়ে বুঝতে পারলাম - মুল কেন্দ্র থেকেই সমস্যা হয়েছে। কোথাও রুটির সাপ্লাই আসেনি। চারটি IndoMaret দোকানে গিয়েছি। পথের সবগুলো মুদির দোকানে দেখেছি। এলাকার আশেপাশের সবখানে দেখা হয়ে গেছে। এরপর, বাসায় ফিরে যাচ্ছি। আমি কিন্তু তখনো আশা ছাড়িনি। ঘরে ফেরার পথে, কোন মুদির দোকান দেখলেই রুটি খুজছি। আর মনে মনে বলছি - আল্লাহ, আমাকে রুটির ব্যাবস্থা করে দাও।
সবশেষে, একেবারে বাসার সামনের গলির মুখে চলে এসেছি। তখন দেখলাম - একটি Gerobak (বিশেষ রিকশা) আসছে আর বলছে - রুটি, রুটি…। জলদি ওর কাছ থেকে রুটি নিয়েছি। আর মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগে-পরে হলে, আমি গলির ভেতরে ঢুকে যেতাম। এই রুটি বিক্রেতাকে দেখতে পেতাম না।
- একবারে শেষ মুহুর্তে রুটি খুঁজে পেয়ে - আমার চোখ ভিজে গেল। উল্লেখ্য, আমি এমন গরীব না যে একটি রুটির জন্য কাঁদতে হবে। তবুও, আমার চোখে পানি আসার কারন হলো - নিজের চোখে আল্লাহর রহমত দেখলাম।
IndoMaret এর মতন জাতীয় ব্রান্ডের দোকানে গিয়ে রুটি পাইনি। এলাকার সকল মুদির দোকানে গিয়ে রুটি পাইনি। তবুও আমি আশা ছাড়িনি। বারবার বলেছি - আল্লাহ, আমাকে রুটি দাও।
আল্লাহ সেই রুটি দিয়েছেন। আমি দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে রুটি পাইনি। অথচ, আল্লাহ সেই রুটি আমার হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। না, আকাশ থেকে রুটি ফেলেন নি। অন্য কোন মানুষের মাধ্যমে আমার প্রয়োজন মিটিয়ে দিয়েছেন।
আল্লাহর নেয়ামত দেখে, আমি কৃতজ্ঞ হয়েছি। চোখে জল নিয়ে বারবার বলেছি - আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর)। বারবার বলেছি সুবহান-আল্লাহ (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি)।
লক্ষ্য করুন - আমি মুখে কি বলেছি সেটা তেমন কোন বড় বিষয় নয়। মুল বিষয়টা হলো, আমি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত স্বীকার করি কিনা। মুল বিষয় হলো - আমি কৃতজ্ঞ কিনা। এটাই শুকরিয়া জানানোর উপায় - আল্লাহর নেয়ামত স্বীকার করুন ; কৃতজ্ঞ হোন।
গুরুত্বপুর্নঃ
আমি একজন পাপী বান্দা। আমি কোন আলেম বা মুফতি নই। ইসলামের মানদণ্ডে, আমার কথা বা কাজের কোন মূল্য নেই। আমি শুধুমাত্র উতসাহ দেবার জন্য এসব ঘটনা বলেছি।
- ইসলামের মানদণ্ড হলেন - নবী মুহম্মদ (স)। তিনি যেটা বলেছেন, যেটা করেছেন, সেটা আসল মুল্যবান। আমরা সেটাই করবো।
একবার নবীর (স) কাছে কোন খাবার ছিলো না। তিনি ক্ষুধার জ্বালায় দিশেহারা হয়ে এদিকে সেদিক ঘোরাফেরা করছেন। পথে আরো কয়েকজন সাহাবীর সাথে দেখা হয়ে গেলো। তারাও ক্ষুধার কষ্টে আছেন। এরপর খোঁজাখুঁজি করে, কোন একজনের খেজুর বাগানে গিয়ে, কিছু খেজুর খেয়ে তারা স্বস্তি পেলেন।
তেমন পরিস্থিতিতে, নবী (স) কোরআনের আয়াত বলেছেনঃ
- ছুম্মা লাতুছ-আলুন্না ইয়াওমাইযিন 'আনিন্না'ঈম (ثُمَّ لَتُسۡـَٔلُنَّ یَوۡمَئِذٍ عَنِ النَّعِیۡمِ) তারপর অবশ্যই সেদিন তোমাদেরকে নেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। (সুরা তাকাসুর - ৮)
বিষয়টা বুঝেছেন তো? যে লোকটির (নবী) সাথে আল্লাহর সরাসরি যোগাযোগ আছে। সেই ব্যাক্তি ক্ষুধার কষ্টে দিশেহারা হবার পরে, অনেক খোঁজাখুঁজি করে কয়েকটি খেজুর পেয়ে বলছেন - পরকালে এই নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।
- এটাকে বলে, আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত স্বীকার করা। এটাকে বলে কৃতজ্ঞ হওয়া। এটাই আসল শুকরিয়া।
দ্রষ্টব্য: হাদীস হলো অন্য মানুষের বর্ণনায়, নবীর (স) বিষয়ে সংবাদ। নবী (স) যখন খাবার খুজেছিলেন, তখন নিশ্চয়ই বারবার আল্লাহর কাছে খাবার চেয়েছিলেন। যদিও হাদীস বর্ণনাকারী সেই কথাটি উল্লেখ করেন নি।
Comments
Post a Comment