সকল মুসলিমেরই এই দুটি জিনিস আছে। সবাই জান্নাতে যেতে চায়। জান্নাতের আশা আছে। আবার জাহান্নামের ভয়ও আছে। কেউই জাহান্নামে যেতে চায় না। আসলে, এই দুটি বিষয় না থাকলে, একজন মানুষ আর মুলিম থাকে না। যে কাফের হয়ে যায়।
কিন্তু, সেই আশা আর ভয়টা কেমন - সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?
এখন হয়তো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া পড়া করছেন ; অথবা কোন চাকরী বা ব্যাবসা করছেন। আশা আছে, অনেকদিন সুস্থভাবে বাঁচবেন। বুড়ো বয়সে কাজকর্ম বাদ দিয়ে অবসর গ্রহন করবেন। তখন আপনার অনেকগুলো নাতি-নাতনী থাকবে। তারা ঘরের ভেতরে হই-চই করে, ঘরটিকে প্রানবন্ত রাখবে। আপনি বারান্দায় কোন এক আরাম চেয়ারে, হেলান দিয়ে বসে থাকবেন।
লক্ষ্য, করুন, এই আশাটি কিন্তু খুব বেশী কঠিন নয়। অনেকে, বৃদ্ধ বয়স হবার আগেই মারা যায়। আপনি যদি বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকেন ; যদি সুস্থ্য থাকেন - তাহলে। আপনার এই আশা এমনিতেই পুরন হবে। আপনি অবসর নিবেন, নাতী-নাতনি থাকবে, আপনি হেলান দিয়ে, বারান্দায় চেয়েরে বসে বাচ্চাদের হই-চই দেখবেন।
আপনি সেই পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চান। বৃদ্ধ হবার আগে, মরতে চান না। বেঁচে থাকলে, এমনিতেই হবে। জান্নাতের ব্যাপারে, আপনার আশাটিও ঠিক তেমন - এমনিতেই হবে। পরকালে, আপনি জান্নাতে যেতে চান ; জাহান্নামে যেতে চান না।
- আসলে, এটা কোন জোরদার আশা বা আকাঙ্ক্ষা হয়নি। একজন ঈমানদার মুসলিমের জান্নাতের আশা এমন নয়। তাহলে, জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা কেমন হবে? কেমন হওয়া উচিৎ?
ওই যে - পরীক্ষাতে GPA5 পাবার যেমন আকাঙ্ক্ষা করেছেন। একটা iPhone কেনার যেমন আকাঙ্ক্ষা করেছেন। নতুন মডেলের মোটরবাইক কেনার আকাঙ্ক্ষা যেমন করেছেন। ভালো একটা চাকরী পাবার আকাঙ্ক্ষা করেছেন। অমুককে পছন্দ হয় ; তাকে বিয়ে করার আকাঙ্ক্ষা করছেন। বিয়ের পরে, সন্তানের আকাঙ্ক্ষা করেছেন। সন্তান বড় হবার পরে, সে যেন ভালো স্কুলে ভর্তি হতে পারে, সেটার আকাঙ্খা করেছেন......
লক্ষ্য করুন - জীবনের বিভিন্ন বয়সে, আপনি বিভিন্ন ধরনের আকাঙ্ক্ষা করেছেন। প্রবল আকাঙ্ক্ষা। ওই জিনিসটা পেতেই হবে। ওটা ছাড়া চলবে না। জান্নাতের ব্যাপারে, কখনো তেমন প্রবল আকাঙ্ক্ষা করতে পেরেছেন কি?
সবাই জানে, জান্নাতে যেতে গেলে, বেশী বেশী ইবাদত করতে হবে। সেটা কতটুকু করতে পারেন ; সেই ব্যাপারে কথা বলছি না। আমি কথা বলছি, আপনার আকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে।
যেখানে ১৫ হাজার টাকাতেই বেশ ভালো ফোন পাওয়া যায় ;অথচ আপনি দুই লক্ষ টাকার iPhone পাবার আকাঙ্ক্ষা করেছেন। টাকা আছে কিনা, সেই চিন্তা বাদ দিয়েই ; আপনি একটি iPhone পাবার জোরালো আকাঙ্ক্ষা করেছেন। তেমন জোড়ালোভাবে কি কখনো জান্নাত আকাঙ্ক্ষা করতে পেরেছেন?
এটাই আমাদের দুর্বলতা - আমাদেরকে শিখিয়েছে জান্নাত পাবার জন্য এটা ওটা করতে হবে। কিন্তু, কখনোই জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা শেখানো হয়নি।
ঠিক এর বিপরীত দিকের চিত্রটা দেখুন। সবাই জাহান্নাম ভয় করে। আপনিও জাহান্নাম ভয় করেন। কেউই জাহান্নামে যেতে চায় না। আপনিও চান না। আপনার জাহান্নাম ভয়টা কিছুটা এমন -
আপনি জানেন, জঙ্গলে বাঘ আছে। সেই বাঘ আপনাকে আক্রমন করতে পারে। আপনি বাঘকে ভয়ে করেন। এজন্য, জঙ্গলে যান না। এমনিতেই বাঘ থেকে দূরে আছেন। একইভাবে, আপনি কুমির ভয় পান। কখনো নদীতে নামেন না। আপনি ছিনতাইকারী ভয় পান। তাই অন্ধকার রাস্তায় হাঁটেন না। এক কথায় - আপনি ভয় পান ঠিকই ; তবে, সেই ভয়গুলো এড়িয়ে চলেন।
- আসলে, এটা কোন জোরদার ভয় হয়নি। একজন ঈমানদার মুসলিমের জাহান্নামের ভয় এমন নয়। তাহলে, ভয়টা কেমন হবে? কেমন হওয়া উচিৎ?
ওই যে - পরীক্ষাতে ফেল করাটা যেমন ভয় করেছেন। একটা চাকরী না পেয়ে, বেকারত্বকে যেমন ভয় করেছেন। আপনার পছন্দের মানুষকে, অন্য কেউ বিয়ে করে ফেলবে, সেটা ভেবে ভয় পেয়েছেন। তাকে হারানোর ভয় পেয়েছেন। বিয়ের ৪ বছর পরেও কোন সন্তান হয়নি। আজীবন সন্তানহীন থাকবেন ভেবে, যেমন ভয় পেয়েছেন। সন্তান বড় হবার পরে, সে পরীক্ষায় ফেল করার পরে ভয় পেয়েছেন....
সবাই জানে, জাহান্নাম থেকে বাঁচতে হলে, পাপ বন্ধ করতে হবে। সেটা কতটুকু করতে পারেন ; সেই ব্যাপারে কথা বলছি না। আমি কথা বলছি, আপনার ভয়ের ব্যাপারে।
এটাই আমাদের দুর্বলতা - আমাদেরকে শিখিয়েছে জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য, এটা ওটা করতে হবে। কিন্তু, কখনোই জাহান্নানের ভয় শেখানো হয়নি।
কি বুঝলেন?
সবাই জানে জান্নাত পেতে হবে, জাহান্নাম থেকে বাঁচতে হবে। কিন্তু, জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা আর জাহান্নামের ভয়, কখনো শিখিনি। সেটার ফলাফল, আমাদের চোখের সামনেই -
আমরা কাজগুলোর (ইবাদত ও সৎকর্ম) তালিকা মুখস্ত করে রেখেছি ঠিকই। কিন্তু, আকাঙ্ক্ষা ও ভয় না থাকার কারণে, সেই কাজগুলো করার জোরালো কোন চেষ্টা আমাদের ভেতরে নেই।

Comments
Post a Comment